বুর্জ খলিফা - বিশ্বের সর্বোচ্চ উচ্চতার ভবন



বুর্জ খলিফা বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উচ্চতম ভবন। দুবাইয়ের শাসক মুহাম্মদ বিন রাশেদ আল মাকতুম এই সুউচ্চ ভবনটি নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। এর অসাধারণ নকশা, অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধা পর্যটকদের গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক দুবাই আসে বুর্জ খলিফা দেখার উদ্দেশ্য। আবুধাবির প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি খলিফা বিন যায়েদ আল নাহিয়ান এর সম্মানার্থে ভবনটির নামকরণ করা হয়।


অবস্থানঃ

বুর্জ খলিফা দুবাইয়ের ডাউনটাউন এবং 'সেন্টার অব নাও নামক' জেলায় অবস্থিত। এর পাশেই দুবাই মল, দুবাই ফাউন্টেন, দুবাই অপেরা নামক বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র গুলি অবস্থিত। বুর্জ খলিফা জাবেল মহাসড়ক থেকে ৫মিনিট এবং দুবাই এয়ারপর্ট থেকে ২০ মিনিট দূরে অবস্থিত।


ডিজাইনঃ


বুর্জ খলিফার মূল আর্কিটেক্ট অ্যাড্রিয়েন স্মিথ এবং স্কিডমোর, ওয়িংশ, মেরিল ও ছিলো আর্কিটেক্ট এর দায়িত্বে। এর স্ট্রাকচারাল ডিজাইনার দায়িত্বে ছিল শিকাগো ভিত্তিক একটি আর্কিটেকচার ফার্ম।

 দুবাই এর ইমার প্রপার্টিজ এর নির্মাণের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন। বিল্ডিংটি উপর থেকে দেখতে ওয়াই অক্ষরের মতো এবং সামনে থেকে ক্রস সেকশন এর মতো। বিশ্বখ্যাত স্যামসাং কোম্পানি ও বিল্ডিংটি নির্মাণে সহযোগিতা করে।


নির্মাণশৈলীঃ


২০০৪ সালে বুর্জ খলিফা নির্মাণের কাজ হাতে নেওয়া হয় এবং ৪ জানুয়ারি ২০১০ সালে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। ভবনটিকে 'উলম্ব শহর' ও বলা হয় যেহেতু এটি নিচ থেকে উপরে যেতে থাকলে ফ্লোর এর সংখ্যা কমতে থাকে। 

১২ হাজার শ্রমিক ২২ মিলিয়ন ঘণ্টা ব্যায় করে ভবনটি নির্মাণে। ভবনটি কমপক্ষে ১০ হাজার মানুষকে ধারণ করতে পারে এবং ভবনটির ভিতরে একসাথে ৩৫ হাজার মানুষের থাকার ব্যবস্থা আছে। ভবনটির নির্মাণে ১.৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল।


সুযোগ সুবিধাঃ

বুর্জ খলিফাতে বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, মসজিদ, গ্রন্থাগার, ব্র্যান্ডেড দোকান রয়েছে। এর অ্যাপার্টমেন্ট গুলো স্টুডিও, ১-৪ বেড পর্যন্ত হয়ে থাকে এবং পেন্টহাউস ও রয়েছে। এতে থাকার জন্য ৯০০ টি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। ভবনটিতে আরো রয়েছে ৩০৪ টি হোটেল রুম এবং ২৯৫৭ গাড়ি একসাথে রাখার মতো ব্যাবস্থা। 

ভবনটিতে রয়েছে ৫৭ টি লিফট যা ঘণ্টায় ৪০ মাইল গতিতে ছুটতে পারে। ভবনটি দুবাইয়ের বিলাসবহুল এলাকা জাবিয়েল, আল জুমাইরা, আল সাফা এর কাছেই অবস্থিত এবং ভবনটির বাসিন্দারা ভবনে অবস্থান করেই উক্ত এলাকা গুলো দেখতে পারেন।


ভবনটির কিছু রেকর্ডঃ

  • এটি বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন যার উচ্চতা ৮২৮ মিটার ( ২,৭১৬ ফুট)। এটি তখনকার সময়ে তাইওয়ানের রাজধানীতে অবস্থিত টাইপে-১০১ কে পিছনে ফেলে।
  • ভবনটি ১৬৩ তলা যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ।
  • ভবনটির অধিকৃত তল সবচেয়ে বেশি যা প্রায় ১৭টা ফুটবল মাঠের সমান।
  • সর্বোচ্চ উঁচুতে পর্যবেক্ষণ ডেক রয়েছে (১৪৮তলায়)।
  • বিশ্বের দীর্ঘতম আর্ট গ্যালারি রয়েছে ভবনটিতে  এবং এতে ৮৫ টি নামিদামী চিত্রকর্ম সাজানো আছে।
  • বিশ্বের বৃহত্তম এলইডি ডিসপ্লে রয়েছে ভবনটিতে।
  • বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উচ্চতার সুইমিং পুল রয়েছে ভবনটিতে (৭৬ তলা)।
  • ভবনটি নির্মাণে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ওজনের ক্রেন লেগেছে যার একটির ওজন ২৫ টন করে।
  • বিশ্বের সবচেয়ে লম্বা রেস্টুরেন্ট রয়েছে ভবনটিতে (১১২ তলায়)।
  • বিশ্বের সবচেয়ে উঁচুতে গ্রন্থাগারের রেকর্ডটিও ভবনটির দখলে (১২৩ তলায়)।

বিনোদনের ব্যবস্থাঃ


ভবনটির বাসিন্দা এবং ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের জন্য রয়েছে বুর্জ খলিফা 'গ্রুপ ট্যুর' এবং 'এ টু টপ' টুরের সুব্যবস্থা। ভবনটিতে সিনেমা দেখার জন্য অত্যাধুনিক সিনেমা হল এবং শপিং এর জন্য রয়েছে অসংখ্য ব্র্যান্ডেড শপ।

 ভবনটির ১২৪,১২৫ এবং ১৪৮ তলায় রয়েছে অটোডেক এর ব্যাবস্থা যার মাধ্যমে সম্পূর্ণ শহরটাকে পত্যক্ষ করা যায়। এছাড়াও খাবার প্রিয় মানুষদের জন্য রয়েছে 'অমল' এবং 'হাশির' নামের রেস্টুরেন্টের ব্যাবস্থা।


বিভিন্ন ইভেন্টঃ


প্রতি বছর নববর্ষ বরণ করতে কয়েক লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে দুবাইতে এবং তাদের মূল আকর্ষণ বস্তুই থাকে বুর্জ খলিফা তার চোখধাঁধানো আতশবাজি এবং লাইট শো এর কারণে। 

বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতা দিবসে দেশগুলোর পতাকা বিশ্বের বৃহত্তম এই এলইডি ডিসপ্লেতে প্রদর্শন করা হয়। এছাড়াও নিয়মিত লেজার শো এবং রাত্রিকালীন ঝর্না দেখার ব্যাবস্থাও রয়েছে।


হোটেলঃ

বুর্জ খলিফাতে পর্যটক এবং অতিথিদের থাকার জন্য  রয়েছে 'আরমানি হোটেল দুবাই' যা ভবনটির ১১ তলা জুড়ে বিস্তৃত। এতে ক্লাসিক, ডিলাক্স রুম এবং প্রিমিয়াম সুইটের ব্যাবস্থা রয়েছে।


বুর্জ খলিফা সম্পর্কে কিছু মজার তথ্যঃ

  • ভবনটির উচ্চতা তিনটি আইফেল টাওয়ার অথবা দুইটি এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং এর উচ্চতার সমান।
  • ভবনটিতে ১ লক্ষ ১০ হাজার টন কংক্রিট এবং ৫৫ হাজার স্টিল রবার ব্যবহৃত হয়েছে।
  • ভবনটির ওজন প্রায় ১ লক্ষ হাতি অথবা ৫ টি যাত্রীবাহী এয়ারবাস এ-৩৮০ এর সমান।
  • প্রতিদিন ১৫ মিলিয়ন টন পানি চুষে নেয় ভবনটি।
  • ভবনটি আপনি ৯৫ কিলোমিটার দূর থেকেও দেখতে পারবেন।
  • ভবনটির নকশা 'হাইমেনোক্যালিস' নামক এক প্রকার ফুলের গাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে করা হয়েছে।
  • ভবনটির মধ্যে লাগানো লিফটগুলো প্রতি সেকেন্ডে ১০ মিটার যেতে পারে। ফলে, শূন্য থেকে ১২৪ তলায় উঠতে সময় লাগে মাত্র এক মিনিট।
 


এতক্ষন সময় নিয়ে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। পোস্টটি ভালো অথবা মন্দ লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন এবং শেয়ার করতে ভুলবেন না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ