বর্তমানে টিকটকের প্রায় ৪৪% ব্যবহারকারীই ভারতীয় এবং অ্যাপটির মোট ১.৫ বিলিয়ন ডাউনলোডের ৬১১ মিলিয়নই হয়েছে ভারত থেকে। তাহলে কিভাবে ভারতে টিক টকের জনপ্রিয়তা এতো বাড়লো?
আমরা আর্টিকেলটিতে এর বিস্তারিত কারণ এবং ভারতে টিকটক অ্যাপ বন্ধের ফলে ক্ষতি সম্পর্কে আলোচনা করবো।
টিকটক ভারতে কেন এতো জনপ্রিয়?
বর্তমান সময়ের একটি গবেষণা অনুসারে, ভারতীয়রা তাদের প্রতিদিনের ৫২ মিনিট সময় দিচ্ছে টিকটকের পিছনে। শুধু মাত্র মে মাসেই ভারতে অ্যাপটির ২০০ মিলিয়ন বার ডাউনলোড হয়েছে। ভারতে টিকটকের এতো চোখধাঁধানো জনপ্রিয়তার কয়েকটি কারণ নিচে তুলে ধরা হলঃ
ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোনের সহজলভ্যতাঃ ভারতে জিও আসার পর পরই ইন্টারনেটের দাম অনেকটাই কমে আসে। প্রতিযোগিতা বাড়ার সাথে সাথে অন্যন্য অপারেটর গুলোও দাম কমিয়ে দিতে বাধ্য হয় এবং ইন্টারনেট এর নাগাল ভারতের প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের কাছে ও চলে যায়।
অপরদিকে, ভারতে এখন প্রায় সব মোবাইল কোম্পানি গুলোই স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করার ফলে এর দাম অনেকটাই কমে আসে। বর্তমানে ১০ হাজার রুপি হাতে থাকলেই ভারতীয়রা সুন্দর একটি মোবাইলের সন্ধান পেতে পারেন।
অধিকাংশই কিশোর-কিশোরীঃ টিক টকের ৬৫% ব্যবহারকারীই হচ্ছে ১৮-২৪ বছরের মধ্যে। ভারতে এই বয়সী কিশোর- কিশোরীর সংখ্যা খুবই বৃহৎ। ফলে তারা নিজেদের সময় কাটানোর জন্য এবং ভাইরাল হতে লুফে নিয়েছে একে।
বলিউডের প্রভাবঃ খুব আগে থেকেই ভারতীয়রা বলিউড ধারা অনেকটাই প্রভাবিত। তাদের পছন্দের শিল্পীদের মত গানের তাল মেলানো, মিমিক করা, প্রিয় অভিনেতার ডায়লগ বলা এবং তাদের মতো ড্রেস পড়া ইত্যাদি এতোদিন ভারতীয়রা নিজেদের মধ্যেই রেখেছেন। কিন্তুু টিকটক তাদের এই সীমাবদ্ধতা পূরণ করেছে এবং ভার্চুয়ালি নিজেদের পরিবেশন করার সুযোগ করে দিয়েছে যা টিকটকের জনপ্রিয়তা ত্বরান্বিত করেছে।
প্রতিভা এবং সৃজশীলতা দেখানোর সুযোগঃ টিকটকের মাধ্যমে মাত্র ১৫ সেকেন্ডেই রান্না, ভ্রমণ, নাচ, হাস্যরস, ফিটনেস, সঙ্গীত, ফটোগ্রাফি নিয়ে ভিডিও দিতে পারেন। মূলত এতে কম সময়ে একটি বিস্তারিত ধারণা পাওয়া যায় এবং ক্রিয়েটররা কম সময়েই তাদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারছেন।
ভাইরাল হওয়ার সুযোগঃ টিকটকে ভিডিও পোস্ট করার মাধ্যমে অনেকেই এখন তারকা বনে গেছেন। এদের মধ্যে কয়েক জনের প্রায় লাখ লাখ ফলোয়ার রয়েছে এবং তাদের ভিডিও আপলোড হওয়ার সাথে সাথে তা ভাইরাল হয়ে যায়।
সহজেই ডাউনলোড করার সুযোগঃ ভারতীয়দের মধ্যে শেয়ার করার প্রবণতা অনেকটাই বেশি। টিকটকের ধারণ করা ভিডিও গুলো সহজেই ডাউনলোড এবং অন্য মাধ্যমে আপলোড করা যায়। ফলে মানুষ তা ডাউনলোড করে হোয়াটসঅ্যাপ এবং অন্যন্য সামাজিক মাধ্যম গুলোতে ছড়িয়ে দিচ্ছে।
উপার্জনের সুযোগঃ টিকটকে ভিডিও গুলো যত বেশি ভিউজ হয় তত বেশি উপার্জনের সুযোগ থাকে। ফলে, ভারতীয় অনেক তরুণ-তরুণীই নিজেদের চাকরি ছেড়ে দিয়ে টিকটকে ফুল টাইম কন্টেন্ট বানানো শুরু করে। ভারতের টপ টিকটকাররা মাসে প্রায় ২-৬ লাখ পর্যন্ত ইনকাম করতে পারে।
ভারতে টিকটক বন্ধের ফলে কোম্পানির ক্ষতি:
কোম্পানিটি এই বছর শুধু মাত্র ভারতেই ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করেছিল তাদের ব্যাবসা সম্প্রসারণের জন্য। কিন্তুু ভারত সরকার থেকে আকস্মিক এই সিদ্ধান্ত আসার ফলে কোম্পানির ব্যাবসা অনেকটাই হোচট খাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেহেতু বিশ্বব্যাপী টকটক এর অধিকাংশ ব্যবহারকারীই ভারতীয় কোম্পানিটির মুনাফাতে মারাত্মক হ্রাস দেখা যাবে বলে বুঝা যাচ্ছে।
তাদের ধারণা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের মতো ক্ষতি হবে তাদের এবং পরবর্তীতে পরিস্তিতি স্বাভাবিক হলেও অনেক ব্যাবহারকারীই এতে নাও ফিরতে পারেন। এছাড়াও টিকটকের বিজ্ঞাপন ব্যাবসার ও ধস নামবে এর মাধ্যমে।
টিকটকের মূল কোম্পানি বাইটড্যান্স এর সিইও কেভিন মেয়ার ইতিমধ্যেই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন এবং চীন সরকারের সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও দাবি করেছেন। চীন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও এই বিষয়ে গভীর উদ্বিগ্ন প্রকাশ করা হয়েছে।
কিছুদিন আগে অ্যাপলের নতুন বেটা আইওএস ১৪ অপারেটিং সিস্টেমে টিকটকের মানুষের টাইপ করা ডাটা গোপনে পড়ে নেওয়ার বিষয়টি ধরা পরে। ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের দেশগুলো ও হইতো টিকটকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে।
এতক্ষন সময় নিয়ে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। পোস্টটি ভালো অথবা মন্দ লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন এবং শেয়ার করতে ভুলবেন না।

0 মন্তব্যসমূহ