জন্মকাল এবং শিক্ষাজীবনঃ
৯ ই জুন, ১৯৮৭ সালে বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন এই কৃতি খেলোয়াড়। তার পিতা মাহবুব হাবিব এবং মাতা রহিমা খাতুন। তার অন্য কোনো ভাই বোন নেই।
বগুড়া জিলা স্কুল থেকে তিনি মাধ্যমিক পাস করেন এবং পরে উচ্চ শিক্ষার জন্য জাহাঙ্গীরনর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ক্রিকেটের খেলার পাশাপাশি তিনি ইতিহাসে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন ২০১২ সালে।
অনূর্ধ্ব-১৯ঃ
২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে মুশফিকুর রহিমকে অধিনায়ক করে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব - ১৯ দল পাঠানো হয়। উক্ত দলের মধ্যে তখনও জাতীয় দলে ডাক না পাওয়া সাকিব আল হাসান এবং তামিম ইকবাল অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। মুশফিকুর রহিমের দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল কোয়াটার ফাইনাল পর্যন্ত যেতে সক্ষম হয়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকঃ
২৬ শে মে, ২০০৫ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচের মধ্যে দিয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। তাকে খালেদ মাসুদ পাইলট এর সহযোগী এবং উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে রাখা হয়। তিনি অভিষেক ম্যাচে ১৯ রান করতে সক্ষম হন। ওইসময়ে লর্ডসে খেলা সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। ইনজুরির কারণে সিরিজের বাকি সময়ে মাঠে নামা হয়নি তার।
টেস্টে এবং অনূর্ধ্ব-১৯ এ ভালো খেলার সুবাদে ২০০৬ সালের আগস্ট মাসের জিম্বাবুয়ে সফরের জন্য বাংলাদেশ একদিনের দলে ডাক পান তিনি। হারারাতে অনুষ্ঠিত সেই অভিষেক ম্যাচেই ফিফটি করে নেন তিনি।
একই বছরের ২৪ শে নভেম্বর চট্টগ্রামের শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি ম্যাচে অভিষেক হয় তার।
অধিনায়কত্বের পূর্বে জাতীয় দলে অবদান (২০০৬-২০১১)ঃ
২০০৭ সালে শ্রীলঙ্কার সাথে আশরাফুল এবং তার করা ১৯১ রানের জুটি জাতীয় দলে তার জায়গা আরো মজবুত করে। ঐসময়ে স্কোরটি ছয় নাম্বারের সেরা জুটি হিসেবে পরিগণিত হয়। এরপর কয়েক বছর তিনি ধারাবাহিক কতগুলা ফিফটি এবং সেঞ্চুরী তুলে নেন যা তাকে জাতীয় দলে আরো নির্ভরযোগ্য করে তোলে।
অধিনায়ত্ব গ্রহণ এবং সমাপ্তিঃ
২০১১ সালে বাজে ভাবে জিম্বাবুয়ে সিরিজ সমাপ্ত করার পর সাকিবকে দলের অধিনায়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং মুশফিককে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। পরবর্তীতে মুশফিকের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যায় এবং টেস্ট ম্যাচে এ হারলেও একদিনের ম্যাচে জয়লভ করে।
২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে গল টেস্টে প্রথম কোনো বাংলাদেশী হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরী করার খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। কিন্তুু ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দলের বাজে ফলাফলের কারণে মুশফিককে শুধু টেস্ট দলের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং মাশরাফিকে ওডিআই দলের অধিনায়কের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।
অধিনায়ত্বের পরে জাতীয় দলে অবদান (২০১৪-২০২০)ঃ
২০১৫ সালের বিশ্বকাপে তিনি ছয়টি ম্যাচে ২৮০ রান করেন তিনি যা বাংলাদেশকে কোয়াটের ফাইনালে নিয়ে যেতে সহায়তা করে। দেশে ফিরে ঘরের মাঠে পাকিস্তানের সাথে ওডিআই সিরিজে ২২০ রান নেন তিনি যা বাংলাদেশকে ৩-০ ব্যবধানে জিততে সহায়তা করে।
২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। এছাড়াও পরের বছর ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে জয়লাভ করতেও গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
সর্বশেষ, ২০২০ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টে নিজের তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরীটি তুলে নেন তিনি এবং ২১৯* করে টেস্টে বাংলাদেশী খেলোয়াড়দের মধ্যে একক সর্বোচ্চ স্কোরের রেকর্ড করেন।
ব্যাক্তিগত জীবনঃ
২০১৪ সালে মুশফিকুর রহিম জান্নাতুল কাফিয়াত মন্দিকে বিবাহ করেন। জান্নাতুল জাতীয় ক্রিকেট দলের অন্য তারকা খেলোয়ার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের স্ত্রী মিষ্টির ছোট বোন। এই দম্পত্তির বর্তমানে মোহাম্মদ সারোজ রহিম মায়ান নামের একজন পুত্রসন্তান রয়েছে।
মুশফিকুর রহিম সম্পর্কে অজানা কিছু তথ্যঃ
- মুশফিক রহিম ফুটবল খেলা দেখতে ও পছন্দ করেন এবং স্প্যানিশ ক্লাব বার্সেলোনা তার প্রিয় টিম।
- অস্ট্রেলিয়া তার সবচেয়ে প্রিয় ঘুরার জায়গা।
- টেস্ট ৪ হাজার এবং ওডিআইতে ৬ হাজার এর বেশি রান নিয়ে তিনি বাংলাদেশের হয়ে যথাক্রমে সর্বোচ্চ দ্বিতীয় এবং তৃতীয় রান গ্রহণ করি।
- তিনি এখন পর্যন্ত টেস্টে ৩টি ডাবল সেঞ্চুরী হাঁকিয়েছেন যা বাংলাদেশ জাতীয় দলের অন্য যেকোনো খেলোয়াড় থেকে সর্বোচ্চ।
- তার প্রিয় কালার হচ্ছে সবুজ।
এতক্ষন সময় নিয়ে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। পোস্টটি ভালো অথবা মন্দ লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন এবং শেয়ার করতে ভুলবেন না।
0 মন্তব্যসমূহ