পরিচিতিঃ
আব্রাহাম বেঞ্জামিন ডি ভিলিয়ার্স ১৭ ই ফেব্রয়ারি, ১৯৮৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিট্টোরিয়া শহরে জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ তিনি ড্যানিলে সোয়ার্ট এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির বর্তমানে দুইটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
তিনি হাই স্কুল পর্যন্তই পড়ালেখা সম্পন্ন করেছেন। খেলাধুলায় অধিক মনোযোগ প্রদান করার কারণে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা হয়নি তার। তিনি এবিডি, দা সুপারম্যান এবং মিস্টার ৩৬০ নামেও ভক্তদের কাছে পরিচিত। 'এবি : দা অটোবায়োগ্রফি' নামের লেখা একটি বই ও রয়েছে তার।
ক্রিকেট অভিষেকঃ
টেস্ট - ১৭ ই ডিসেম্বর, ২০০৪ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
ওডিআই - ২ রা ডিসেম্বর, ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
টি টোয়েন্টি - ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
ক্রিকেট পরিসংখ্যানঃ
ডি ভিলিয়ার্স দীর্ঘ ১৪ বছরের ক্রিকেট জীবনে ২০,০১৪ আন্তর্জাতিক রান করেছেন যার মধ্যে ৪৭ টি সেঞ্চুরী এবং ১০৯ টি অর্ধ-সেঞ্চুরী অন্তর্ভুক্ত। তিনি টেস্ট ৮,৭৬৫ রান, ওডিআইতে ৯,৫৭৭ রান এবং টি-টোয়েন্টি তে ১৬৭২ রান করেছেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়েও খেলেছেন যেখানে ও তিনি অসংখ্য রান নিয়েছেন।
ডি ভিলিয়ার্সের এর করা অসাধারণ কিছু রেকর্ডঃ
১- ক্রিকেট বিশ্বকাপে সর্বনিম্ন ১০০০ রান করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬৩.৫৩ গড় নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন তিনি। ২০১৫ সালের তার করা ৪৮২ রান দক্ষিণ আফ্রিকা দলকে সেমি ফাইনালে নিয়ে যেতে সাহায্য করে।
২- ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওডিআই ম্যাচে তিনি মাত্র ১৬ বলে ৫০ রান এবং একই ম্যাচে ৩১ বলে নিজের ১০০ তুলে নিয়ে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে অর্ধ-সেঞ্চুরী এবং সেঞ্চুরী করার রেকর্ড গড়েন। ৪৪ বলে ১৪৯ রানে অপরাজিত থেকে ইনিংস শেষ করেন তিনি।
৩- ওয়েষ্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেই একই ম্যাচে ১৬ টি ছক্কা হাঁকানোর মধ্যে দিয়ে রোহিত শর্মার করা এক ইনিংসে করা সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড ভেঙে দেন। তিনি উক্ত ইনিংসে ৯ টি চার ও মেরেছিলেন।
৪- তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মোট ৪৭ টি সেঞ্চুরী করেন যা দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তৃতীয় এবং বিশ্বে দশম সর্বোচ্চ।
৫- তার এবং বিরাট কোহলিরই আইসিসির 'বর্ষসেরা ওডিআই ক্রিকেটার' তিনবার করে জয়ের রেকর্ড রয়েছে।
৬- টেস্ট এবং ওডিআইতে কমপক্ষে ১০,০০০ রান পূর্ণ করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে শুধু তার এবং বিরাট কোহলির গড় ৫০ এর উপরে। তার টেস্ট এবং ওডিআইতে গড় যথাক্রমে ৫০.৬৬ এবং ৫৩.৫০।
৭- ওডিআই ক্রিকেটে মোট ২০৪ টি ছক্কা হাঁকানোর মধ্যে দিয়ে তিনি সর্বোচ্চ ছক্কা হাঁকান ক্রিকেটারদের লিস্টে তিনি পঞ্চম স্থানে রয়েছেন। শীর্ষে অবস্থানকারী শহীদ আফ্রিদির ছক্কার পরিমাণ ৩৫১ টি।
৮- দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে কম ইনিংস খেলে ১৬ টি সেঞ্চুরী পূর্ণ করেন।
৯- আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সকল ফরম্যাটে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৭ টি সেঞ্চুরী হাঁকিয়েছেন। শীর্ষে থাকা জ্যাক ক্যালিস তার থেকে প্রায় ২০০ ম্যাচ বেশি খেলে ৬২ টি সেঞ্চুরী করেছেন।
১০- তিনি ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে মাত্র ৬৪ বল খেলে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে দেড় শতাধিক রান তুলে নেন যা এখন পর্যন্ত কেউ ভাঙতে পারে নি।
১১- তিনি ৫৩.৫০ গড় এবং ১০০.১০ স্ট্রাইক রেট নিয়ে মাত্র ২২৮ ম্যাচেই নিজের ৯,০০০ ওডিআই রান পূর্ণ করেন যার মাধ্যমে তিনি সৌরভ গাঙ্গুলির ১৩ বছর আগের রেকর্ড ভেঙে দেন। যদিও বিরাট কোহলি পরে ১৯৪ ভেঙে ইনিংস খেলেই উক্ত রানে পৌঁছে যান এবং রেকর্ডটি নিজের করে নেন।
১২- টেস্টে ৭৮ তম ইনিংসে এসে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বপ্রথম শূন্য রানে আউট হন যা যেকোনো ব্যাটসম্যানের চেয়ে দীর্ঘতম সময়ে।
১৩- তিনি ক্রিকেট ইতিহাসে সপ্তম সর্বোচ্চ ৩২৮ টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন।
১৪- ক্রিকেট বিশ্বকাপে মোট ২০ টির বেশী ম্যাচ খেলা যেকোনো ক্রিকেটার থেকে বেশি গড় (৬৩.৫২) এবং স্ট্রাইক রেট (১১৭.২৯) রয়েছে তার।
১৫- তিনি অধীনায়ক থাকাকালে ওডিআইতে ৬৩.৯৫ গড়ে ৪,৭৯৬ রান করেছেন যা যেকোনো অধীনায়কের তুলনায় বেশি। এছাড়াও তার অধিনায়কত্বে দক্ষিণ আফ্রিকা ৫৯ টি ওডিআই ম্যাচ খেলে ৩৯ টিতেই জয়লাভ করেছে এবং সফলতার হার ৬০.১০ যা দক্ষিণ আফ্রিকার যেকোনো অধিনায়কের তুলনায় বেশি।
১৬- তিনি ৫০ এর বেশি গড় এবং ১০০ এর বেশি স্ট্রাইক রেট নিয়ে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ২,০০০ রান পূর্ণ করেন।
১৭- ভারতের বিপক্ষে ১০১১-১২ সেশনের টেস্ট ম্যাচে মাত্র ৭৫ বলে নিজের সেঞ্চুরী পূর্ণ করেন যা যেকোনো দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানের চেয়ে দ্রুততম।
১৮- তিনি টেস্ট ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৭৮ (নটআউট) রানের একক স্কোরের রেকর্ড গড়েন।
দ্বিতীয় পর্বে, আমরা ডি বিলিয়ারস এর আইপিএলে করা কিছু অসাধারণ রেকর্ড, তার প্রিয় জিনিস এবং তার সম্পর্কে মজার জিনিসগুলা নিয়ে আলোচনা করবো।
এতক্ষন সময় নিয়ে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। পোস্টটি ভালো অথবা মন্দ লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন এবং শেয়ার করতে ভুলবেন না।





0 মন্তব্যসমূহ