ডি ভিলিয়ার্সের জীবনী, রেকর্ড এবং অজানা তথ্য (পর্ব-২)



ডি ভিলিয়ার্স আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো করার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে ও খেলেছেন এবং এর মধ্যে আইপিএল অন্যতম। ডি ভিলিয়ার্সের অভিষেকের পর দুই-তিন বছর বেশি ভালো সময় কাটে নি। পরবর্তীতে আইপিএলের খেলার মাধ্যমে তার পরিচিতি জানান দেন এবং পরবর্তীতে জাতীয় দলের হয়ে ও ভালো খেলতে থাকেন।

প্রথম পর্বে আমরা ডি ভিলিয়ার্সের পরিচিতি, ক্রিকেট পরিসংখ্যান এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অসাধারণ কিছু রেকর্ড নিয়ে আলোচনা করেছি। এই পর্বে আমরা তার আইপিএলে করা কিছু রেকর্ড, তার প্রিয় জিনিসগুলো এবং তার সম্পর্কে অজানা তথ্যগুলো জানবো।


আইপিএলে তার করা কিছু দুর্দান্ত রেকর্ডঃ



১- বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ এবং রানঃ ডি ভিলিয়ার্স আইপিএলে এখন পর্যন্ত মোট ১৪১ টি ম্যাচ খেলেছেন। এর মাধ্যমে তিনি ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার কাইরন পোলার্ড এর খেলা ১৩২ ম্যাচ এর রেকর্ডকে পিছনে ফেলেছেন। 

তিনি আইপিএলে এখন পর্যন্ত মোট ৩,৯৫৩ রান নিয়ে দশম সর্বোচ্চ রান স্কোরার এবং বিদেশি হিসেবে প্রথম। এক্ষেত্রে তার গড় ৩৯.৫৪। এছাড়াও ছেন্নাইস্বামি স্টেডিয়ামে সর্বনিম্ন ১০ ম্যাচ খেলা যেকোনো ক্রিকেটার থেকে তার গড় বেশি।



২- এক আইপিএল আসরে সবচেয়ে বেশি ক্যাচঃ ২০১৬ সালের আইপিএল আসরে রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালোরের হয়ে ১৬ টি ম্যাচ খেলে তিনি ১৬ টি ক্যাচ ধরেন যার মাধ্যমে তিনি পূর্বে ডেভিড মিলারের এক আসরে ধরা ১৪ টি ক্যাচের রেকর্ড ভেঙে দেন।

 তিনি ওই আসরে ১৬৮.১৯ স্ট্রাইক রেট ৬৮৭ রান করেন এবং ৩৭ টি ছক্কা হাঁকান। বিরাট কোহলি সেই আসরে সর্বোচ্চ ৩৮ টি ছক্কা হাঁকিয়ে ছিলেন।



৩- বিরাট কোহলির সাথে দুইটি সর্বোচ্চ রানের পার্টনরশিপঃ ২০১৬ সালে গুজরাট ল্যন্সের বিপক্ষে ১২টি ছয় এবং ১০ টি চার এবং ২৪৮.০৭ স্ট্রাইক রেটে ৫২ বলে ১২৯ রান করে অপরাজিত থাকেন। ফলে বিরাট কোহলির সাথে তার ২২৯ রানের জুটি দাঁড়ায় এবং ফলের টোটাল স্কোর দাঁড়ায় ২৪৯।

 অপর পার্টনারশিপের রেকর্ডটি ঘটে ২০১৫ সালে। রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালোরের হয়ে তিনি এবং বিরাট কোহলি ২১৫ রানের জুটি গড়েন যার মধ্যে তিনি ৫৯ বলে ১৩৩ রান এবং বিরাট কোহলি ৫০ বলে ৮২ রান করেন। যার ফলে দলের টোটাল স্কোর দাঁড়ায় ২৩৫ রান।



৪- আইপিএলে দ্বিতীয় এবং চতুর্থ উইকেটে সর্বোচ্চ রানের পার্টনরশিপের রেকর্ড: ডি ভিলিয়ার্স দ্বিতীয় উইকেটের সর্বোচ্চ রানের জুটিটি গড়েন বিরাট কোহলির সাথে। ২০১৬ সালের গুজরাট লায়ন্সের বিপক্ষে ২২৯ রানের জুটিটি গড়েন। 

তিনি চতুর্থ উইকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটিটি গড়েন যুবরাজ সিংয়ের সাথে। ২০১৪ সালে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে তিনি ৩২ বলে ৫৮ এবং যুবরাজ সিং ৩৮ বলে ৮৩ রান করার মধ্যে দিয়ে ১৩২ রানের জুটি দাড়া করান।



ডি ভিলিয়ার্স এর প্রিয় জিনিসগুলোঃ


  • খেলতে ভালোবাসেন - ভারত এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে
  • প্রিয় শর্ট - পুল
  • শখ - সুইমিং, ট্রাভেলিং
  • প্রিয় ব্যাটসম্যান - বিরাট কোহলি
  • প্রিয় বোলার - ওয়াসিম আকরাম
  • প্রিয় অ্যাথলেট - রজার ফেদেরার, টাইগার উডস
  • প্রিয় অভিনেতা - ব্র্যাড পিট
  • প্রিয় গাড়ি - বিএমডব্লিউ এক্স ৫


ডি ভিলিয়ার্স সম্পর্কে অজানা তথ্য গুলোঃ


  1.  তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা জুনিয়র হকি স্কোয়াডের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিলেন।
  2. দক্ষিণ আফ্রিকার জুনিয়র জাতীয় ফুটবল দলের স্কোয়াডে ছিলেন তিনি।
  3. তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার জুনিয়র রাগবি টিমের অধীনায়ক ছিলেন। 
  4. তিনি পাঁচবার আফ্রিকান স্কুল সুইমার হওয়ার রেকর্ড অর্জন করেন।
  5. দক্ষিণ আফ্রিকার জুনিয়র অ্যাথলেটদের মধ্যে ১০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগতায় প্রথম হয়েছিলেন তিনি।
  6. দক্ষিণ আফ্রিকা জুনিয়র ডেভিস টেনিস কাপের সদস্য ছিলেন তিনি।
  7. অনূর্ধ্ব -১৯ জাতীয় ব্যাডমিন্টন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছিলেন তিনি।
  8. তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার জুনিয়র গলফ দলের সদস্য ছিলেন।
  9. নেলসন ম্যান্ডেলা বিজ্ঞান প্রজেক্টের জন্য মেডেল পেয়েছিলেন তিনি।
  10. দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যান্ড 'আম্পেল দু পেরোজ' এর ড্রিম কাম ট্রু অ্যালবামে কণ্ঠ দিয়েছিলেন তিনি।

                          উপরের তথ্য গুলার মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই ডি ভিলিয়ার্স বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন। তবে তিনি পরবর্তীতে ক্রিকেটেই মনোযোগ প্রদান করেন এবং দলের জন্য অসামান্য অবদান রাখেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ